রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রোকেয়া বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১১ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের শিবদেব গ্রামে মৃত সুরত আলীর পরিবার এবং প্রতিবেশী আবুল কাশেমের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আগে একাধিকবার সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনাও ঘটে। সুরত আলীর মৃত্যুর পর তার মেয়ে রোকেয়া বেগম পরিবারের পক্ষে আইনি লড়াই ও সম্পত্তির বিষয়গুলো দেখভাল করতেন। এতে প্রতিপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রোকেয়া বেগম গোসল করতে প্রতিবেশীর বাড়িতে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন। আগে থেকে ওত পেতে থাকা মমিনুল ইসলাম, তার বোন শাহানা বেগমসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে কাপড় দিয়ে মুখ পেঁচিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা পীরগাছা থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫–৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২১, তারিখ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬)।
মামলার প্রধান আসামি মমিনুল ইসলাম পলাতক থাকলেও পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই নারী আসামি মোমেনা বেগম ও শাহানা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
শাফিকুজ্জামান সোহেল, রংপুর প্রতিনিধি: 









