গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
বিদেশে নিয়ে পার্টনারশিপে ব্যবসা করার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাওনা টাকা উদ্ধার ও নিরাপত্তার দাবিতে গোপালগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার।
শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মো. নাছির উদ্দিন, তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. ইকবাল হোসেন এবং পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতানশাহী গ্রামের মহসিন চৌধুরীর ছেলে মাসুদ রানা বিল্লাল, ঘোষেরচর ইসলামপাড়া এলাকার মো. ইকবাল হোসেনের ছেলে মো. নাছির উদ্দিনকে দুবাই নিয়ে পার্টনারশিপে ব্যবসা করার প্রস্তাব দেন। এতে রাজি হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে বিল্লাল প্রায় ৪০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে নাছিরকে দুবাই নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ব্যবসার ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং সেখানে তার ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালানো হয়। চার মাস পর কোনো উপায় না পেয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফেরার পর বিল্লালের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তিনি দীর্ঘদিন টালবাহানা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে শুকতাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বিল্লাল ২৮ লাখ টাকা কয়েক কিস্তিতে পরিশোধ করবেন মর্মে একটি লিখিত মুচলেকা দেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০২৫ সালের মে মাসে মাসুদ রানা বিল্লাল মারা যান। পরে তাকে নিজ গ্রামের পরিবর্তে খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে দাফন করা হয়। খবর পেয়ে নাছিরের বাবা ইকবাল হোসেন সেখানে গিয়ে পাওনা টাকার বিষয়টি উত্থাপন করলে বিল্লালের স্ত্রী আয়েশা আক্তার রুমা টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেন এবং দাফনকাজে কোনো বাধা না দেওয়ার অনুরোধ জানান। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই শ্বশুরবাড়িতে বিল্লালের দাফন সম্পন্ন হয়।
নাছিরের মা আম্বিয়া আক্তার লাকি বলেন, টাকা নেওয়ার সময় বিল্লালের স্ত্রী রুমা একাধিকবার তাদের বাড়িতে এসে টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিল্লালের মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি একটি টাকাও ফেরত দেননি। উল্টো টাকা চাইলে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাছিরের বাবা ইকবাল হোসেন বলেন, বিল্লাল সম্পর্কে তার চাচাতো বোনের ছেলে। ভাগ্নের মতো বিশ্বাস করেই জীবনের সঞ্চিত অর্থ তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাদের পরিবারকে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের পাওনা টাকা উদ্ধার এবং আয়েশা আক্তার রুমার কথিত হুমকির হাত থেকে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
মোঃ আবিদ হাসান মুছা 








