সারা দেশের মতো কুষ্টিয়াতেও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) সকাল থেকেই জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে পুরো জেলা।
দিনের শুরুতে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শহরের প্রধান সড়কগুলো ঘুরে শোভাযাত্রাটি বনবীথির বৈশাখ মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। রঙিন সাজসজ্জা, ব্যানার ও ফেস্টুনে পুরো শোভাযাত্রা ছিল প্রাণবন্ত।
শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় উৎসবমুখর এক মিলনমেলায়।
জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি নতুন বছরে সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্য ও সম্প্রীতি জোরদারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের সতর্ক অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় পৃথক বৈশাখী অনুষ্ঠান। এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্যম গুহ, সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, ভূমি কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন সংসদ সদস্য রেজা আহামেদ বাচ্চু মোল্লা-এর পুত্র আসিফ রেজা শিশির মোল্লা। তার পরিবেশনা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে।
এছাড়াও জেলার কুমারখালী, খোকসা, ভেড়ামারা এবং মিরপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় শোভাযাত্রা, লোকজ মেলা, গ্রামীণ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপিত হয়।
দিনভর নানা আয়োজন ও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কুষ্টিয়া পরিণত হয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়, যেখানে ফুটে ওঠে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির চিত্র।
তানভীর আজাদ, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি: 









