রংপুর নগরীতে মাদক কারবারের দ্বন্দ্বে যুবদল নেতা রাকিব হাসান হত্যার ঘটনায় উত্তেজনা থামার আগেই ঘটনাস্থল দাসপাড়ায় ফের হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের সময় ‘কেউ মুখ খুলছে না—এ অভিযোগ তুলে স্থানীয় দোকানপাট ও বাড়িঘরে এ হামলা চালানো হয় বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সোয়া ৮টার দিকে নগরীর দাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীরা জানান, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কিছু দেখেননি বলে জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে একদল লোক হামলা চালায়। এতে একাধিক দোকান ও বসতবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়।
অন্যদিকে নিহত রাকিবের পরিবারের দাবি, হামলার সময় তারা মরদেহ দাফন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এ সুযোগে মামলাকে ভিন্ন খাতে নিতে প্রধান অভিযুক্ত মমিনের জামাই সিফাতের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দাসপাড়া মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০টি দোকান বন্ধ রয়েছে। যেখান থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেখানে রক্তের দাগের ওপর ছাই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি দোকানের শাটার ভাঙা এবং আশপাশের কয়েকটি বাড়ির টিনের বেড়া ও জানালায় ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয় চা বিক্রেতা বিনোদিনী দাস বলেন, “রাকিবকে কোথায় মারা হয়েছে জানি না, তবে দৌড়ে এসে পাশের দোকানের সামনে পড়ে যায়। রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে ৪০-৫০ জনের একটি দল এসে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল।
মুদি দোকানদার আরিফ হাসান রুবেল বলেন, “দুপুর থেকেই কিছু লোক অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। রাতে হামলার পর দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
ভাঙচুরের শিকার সবিতা রানী বলেন, “আমরা কোনো অপরাধ করিনি। তবু আমাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।”
একই অভিযোগ করেন নমিতা দাস। তিনি জানান, হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে বলেন—এত লোক থাকলেও কেউ কিছু দেখেনি, তাদের ‘শেষ করে দেওয়া হবে’। হামলার সময় পরিবার নিয়ে ঘরের ভেতর আশ্রয় নেন তিনি।
এদিকে নিহতের পরিবারের সদস্যরা হামলার দায় অস্বীকার করে দাবি করেন, এটি পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা। নিহতের বোন রুবিনা বেগম বলেন, “আমার ভাইকে কোনো হিন্দু হত্যা করেনি। তাহলে আমরা কেন তাদের বাড়িঘরে হামলা করব? এটি মামলাকে অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা।
নিহতের মা নুরজাহান বেগম বলেন, “আমার ছেলের হত্যাকারীরা আমাদের ফাঁসাতে এসব করছে। আমি এর বিচার চাই।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে রাকিব ও অভিযুক্ত মমিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। কয়েক মাস আগে ওই বিরোধের জেরে রাকিবকে মারধর করে পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। হত্যার আগের দিনও দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বশত্রুতা, মাদক কারবার, আধিপত্য বিস্তারসহ সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নগরীর সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। কোথাও গাফিলতি থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দাসপাড়া মোড়ে রাকিব হাসান (২৩) নামে ওই যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি মহানগর যুবদলের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
শাফিকুজ্জামান সোহেল, রংপুর প্রতিনিধি: 









