ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে গঙ্গাচড়ায় বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৭০ বার দেখেছেন


শফিকুজ্জামান সোহেল
‎স্টাফ রিপোর্টার

‎রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি)নির্বাচনি পথসভায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা বিএনপি। এ ঘটনায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরাপত্তা জোরদার এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

‎বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের তুলশীরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। রাত ১১টায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

‎তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে বিকেলে দলীয় প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে নোহালী ও আলমবিদিতর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করা হয়। সন্ধ্যার দিকে তুলশীরহাট এলাকায় পথসভা চলাকালে তার বক্তব্যের সময় পেছন থেকে এক যুবক আপত্তিকর মন্তব্য করলে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তিনি মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

‎চাঁদ সরকার আরও জানান, তার বক্তব্যের পর প্রার্থী বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে প্রার্থীকে নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিলসহ স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় তিনি মিছিলের পেছনে অবস্থান করছিলেন। তখন জামায়াত-শিবিরের ১০-১২ জন সমর্থক তাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করে। এক ব্যক্তি লাঠিসদৃশ বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে সঙ্গে থাকা গোলাম রব্বানী তাকে সরিয়ে নেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। চাঁদ সরকার বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পথসভা ও মিছিল করেছি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই বলেই কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাইনি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

‎সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ, দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য গোলাম রব্বানী রঞ্জু, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শাহিন আলম সোনাসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

‎এবিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নায়েবুজ্জামান বলেন, নির্বাচনি কার্যক্রম উভয় দলই শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করছে। তবে বিএনপির পথসভায় একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের এক সমর্থক প্রতিবাদ জানালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ওই সমর্থক স্থান ত্যাগ করেন। আরেকজন ভিডিও ধারণ করলে তাকে বিএনপির লোকজন মারধর করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি যাতে বাড়াবাড়ি না হয়, সে জন্য তিনি বিএনপির সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান। তিনি বলেন, আমরা সবাই শান্তিপূর্ণ ভোট চাই। এখানে তৃতীয় পক্ষেরও কোনো উসকানি থাকতে পারে।

‎গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর ছবুর জানান, এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎এবিষয়ে সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার বলেন, উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে এবং নির্বাচন আচরণবিধি পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্পদের উৎস নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা অভিযোগ চাঁদাবাজি ও মানহানির; মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলছেন সাংবাদিকরা

জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে গঙ্গাচড়ায় বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬


শফিকুজ্জামান সোহেল
‎স্টাফ রিপোর্টার

‎রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি)নির্বাচনি পথসভায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা বিএনপি। এ ঘটনায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরাপত্তা জোরদার এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

‎বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের তুলশীরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। রাত ১১টায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

‎তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে বিকেলে দলীয় প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে নোহালী ও আলমবিদিতর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করা হয়। সন্ধ্যার দিকে তুলশীরহাট এলাকায় পথসভা চলাকালে তার বক্তব্যের সময় পেছন থেকে এক যুবক আপত্তিকর মন্তব্য করলে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তিনি মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

‎চাঁদ সরকার আরও জানান, তার বক্তব্যের পর প্রার্থী বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে প্রার্থীকে নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিলসহ স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় তিনি মিছিলের পেছনে অবস্থান করছিলেন। তখন জামায়াত-শিবিরের ১০-১২ জন সমর্থক তাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করে। এক ব্যক্তি লাঠিসদৃশ বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে সঙ্গে থাকা গোলাম রব্বানী তাকে সরিয়ে নেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। চাঁদ সরকার বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পথসভা ও মিছিল করেছি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই বলেই কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাইনি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

‎সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ, দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য গোলাম রব্বানী রঞ্জু, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শাহিন আলম সোনাসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

‎এবিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নায়েবুজ্জামান বলেন, নির্বাচনি কার্যক্রম উভয় দলই শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করছে। তবে বিএনপির পথসভায় একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের এক সমর্থক প্রতিবাদ জানালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ওই সমর্থক স্থান ত্যাগ করেন। আরেকজন ভিডিও ধারণ করলে তাকে বিএনপির লোকজন মারধর করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি যাতে বাড়াবাড়ি না হয়, সে জন্য তিনি বিএনপির সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান। তিনি বলেন, আমরা সবাই শান্তিপূর্ণ ভোট চাই। এখানে তৃতীয় পক্ষেরও কোনো উসকানি থাকতে পারে।

‎গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর ছবুর জানান, এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎এবিষয়ে সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার বলেন, উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে এবং নির্বাচন আচরণবিধি পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।