ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে ‘এসপির অসন্তোষের মুখে পড়ার অভিযোগ

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৩১ বার দেখেছেন

স্টাফ রিপোর্টার
‎শফিকুজ্জামান সোহেল

‎হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাতে গিয়ে রংপুর জেলা পুলিশ সুপারের অসন্তোষের মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার।

‎তাদের দাবি, রংপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) কাছে হত্যার বিচার চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ‘মুড নষ্ট হয়েছে’ উল্লেখ করে একপর্যায়ে তাদের কক্ষ থেকে বের করে দেন।

‎নিহত আখেরুল ইসলামের ছোট ভাই আক্তারুল ইসলাম শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে গঙ্গাচড়া উপজেলায় আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন।

‎আখেরুল ইসলামের হত্যার বিচারের দাবিতে পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

‎মানববন্ধনে আক্তারুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমি রংপুরের এসপি স্যারের রুমে গেছিলাম যেয়ে শুধু ছালাম দিছি। তারপর আমার বোন জামাইকে অপমান করে রুম থেকে বের করে দেয়। তারপর আমাকে ডেকে বিভিন্নভাবে সান্তনা দেন আসামী ধরা পড়বে। পরে তিনি বলেন আমি বাদী হয়ে এসপির কাছে যাওয়ায় নাকি ওনার ১ সপ্তাহের জন্য মুড নষ্ঠ হয়ে গেলো।’ এতে তারা চরমভাবে অপমানিত ও হতাশ হয়েছেন বলে জানান আক্তারুল।

‎জানা যায়, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে গঙ্গাচড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভূটকা গ্রামের ডুব্বির পাড় এলাকায় আখেরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। তিনি তিন সন্তানের জনক।

‎নিহতের বড় মেয়ে আঁখি মনি (১৭), যিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী, মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি আমার বাবা হত্যার বিচার চাই। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো বিচার পাইনি।

‎নিহতের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৩২), মা আকলিমা বেগম (৫৫) ও বাবা শামসুদ্দিন আহমেদ (৭০)ও দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

‎মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী গোলাম রব্বানী রতন, গ্রামবাসীর পক্ষে শাহজালাল, মোহাইমিনুল ইসলাম আহাদ ও মাহফুজার রহমানসহ অনেকে।

‎বক্তারা বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে। তারা প্রশাসনকে তিন দিনের সময় বেঁধে দেন।

‎এ বিষয়ে রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কৌশলগত কারণেই তিনি নিহতের স্বজনদের ধৈর্য ধরতে বলেছেন। আগে থেকেই কোনো তথ্য জানানো হলে আসামিরা সতর্ক হয়ে যেতে পারে।

‎তিনি আরও বলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলায় আখেরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পরপরই আরেকটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। সেই ঘটনায় চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। আখেরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।‌

বিদেশে নেওয়ার প্রলোভনে ৪০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ, টাকা ফেরতের দাবিতে গোপালগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন

হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে ‘এসপির অসন্তোষের মুখে পড়ার অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার
‎শফিকুজ্জামান সোহেল

‎হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাতে গিয়ে রংপুর জেলা পুলিশ সুপারের অসন্তোষের মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার।

‎তাদের দাবি, রংপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) কাছে হত্যার বিচার চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ‘মুড নষ্ট হয়েছে’ উল্লেখ করে একপর্যায়ে তাদের কক্ষ থেকে বের করে দেন।

‎নিহত আখেরুল ইসলামের ছোট ভাই আক্তারুল ইসলাম শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে গঙ্গাচড়া উপজেলায় আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন।

‎আখেরুল ইসলামের হত্যার বিচারের দাবিতে পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

‎মানববন্ধনে আক্তারুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমি রংপুরের এসপি স্যারের রুমে গেছিলাম যেয়ে শুধু ছালাম দিছি। তারপর আমার বোন জামাইকে অপমান করে রুম থেকে বের করে দেয়। তারপর আমাকে ডেকে বিভিন্নভাবে সান্তনা দেন আসামী ধরা পড়বে। পরে তিনি বলেন আমি বাদী হয়ে এসপির কাছে যাওয়ায় নাকি ওনার ১ সপ্তাহের জন্য মুড নষ্ঠ হয়ে গেলো।’ এতে তারা চরমভাবে অপমানিত ও হতাশ হয়েছেন বলে জানান আক্তারুল।

‎জানা যায়, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে গঙ্গাচড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভূটকা গ্রামের ডুব্বির পাড় এলাকায় আখেরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। তিনি তিন সন্তানের জনক।

‎নিহতের বড় মেয়ে আঁখি মনি (১৭), যিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী, মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি আমার বাবা হত্যার বিচার চাই। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো বিচার পাইনি।

‎নিহতের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৩২), মা আকলিমা বেগম (৫৫) ও বাবা শামসুদ্দিন আহমেদ (৭০)ও দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

‎মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী গোলাম রব্বানী রতন, গ্রামবাসীর পক্ষে শাহজালাল, মোহাইমিনুল ইসলাম আহাদ ও মাহফুজার রহমানসহ অনেকে।

‎বক্তারা বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে। তারা প্রশাসনকে তিন দিনের সময় বেঁধে দেন।

‎এ বিষয়ে রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কৌশলগত কারণেই তিনি নিহতের স্বজনদের ধৈর্য ধরতে বলেছেন। আগে থেকেই কোনো তথ্য জানানো হলে আসামিরা সতর্ক হয়ে যেতে পারে।

‎তিনি আরও বলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলায় আখেরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পরপরই আরেকটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। সেই ঘটনায় চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। আখেরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।‌