ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্পাদকীয়: বগলে ইট, মুখে ঐক্যের বুলি: জামায়াতের ‘আসন-খেলার’ বলি কি ইসলামী আন্দোলন?

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:২৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৩৫ বার দেখেছেন

​বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখনই ইসলামপন্থী শক্তির একটি বৃহত্তর ঐক্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখনই কোনো না কোনো অদৃশ্য সুতো সেই সম্ভাবনাকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। এবার সেই অভিযোগের তীর খোদ জামায়াতে ইসলামীর দিকে। পীর সাহেব চরমোনাইয়ের দেওয়া ‘এক বাক্স’ বা নির্বাচনী সমঝোতার ডাককে পুঁজি করে জামায়াত যে আসন বণ্টনের ফর্মুলা সাজিয়েছে, তা ঐক্যের চেয়ে বরং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে (আইএবি) রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করার একটি নিখুঁত চিত্রনাট্য বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

​দেশের রাজনীতির সমীকরণ বলে, জনভিত্তি আর ভোটব্যাংকের বিচারে ইসলামী আন্দোলন বর্তমানে যে অবস্থানে আছে, সেখানে জামায়াতের এই বণ্টন কেবল হাস্যকরই নয়, রীতিমতো অপমানজনক। যে এনসিপি কিংবা মামুনুল হকের দলের নির্বাচনী সামর্থ্য নিয়ে খোদ সমর্থকদের মধ্যেই সংশয় আছে, তাদের ঝুড়িতে ৩০ কিংবা ২০টি আসন ঢেলে দিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে ৪০-৪৫টি আসনে আটকে রাখা পুরোটাই কি কেবল অংক, নাকি সুদূরপ্রসারী কোনো ষড়যন্ত্র?

​সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, সমঝোতার আড়ালে ‘উন্মুক্ত আসন’ রাখার কৌশল। এর মাধ্যমে একদিকে হাতপাখার জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নস্যাৎ করা হচ্ছে, অন্যদিকে জোটের দায় ইসলামী আন্দোলনের ওপর চাপানোর পথ খোলা রাখা হয়েছে। জামায়াত কি তবে রাজপথের পরীক্ষিত এই শক্তিকে সরিয়ে আনকোরা এনসিপি-কে দ্বিতীয় প্রধান শক্তিতে রূপ দিতে চায়?

​রাজনৈতিক এই ‘দুষ্টবুদ্ধি’ কেবল একটি দলের ক্ষতি করবে না, বরং আসন্ন নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের উত্থানকেই অনিশ্চিত করে তুলবে। ইসলামী আন্দোলন ইতিমধ্যেই ২৮৬ আসনে প্রার্থী দিয়ে জামায়াতকে একটি বার্তা দিয়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত এই ‘এক বাক্স’ উদ্যোগ ব্যর্থ হয়, তবে তার দায়ভার জামায়াতকেই নিতে হবে। কারণ, বগলে ইট নিয়ে আর যাই হোক, অন্তত আদর্শিক সমঝোতা সম্ভব নয়।

সম্পদের উৎস নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা অভিযোগ চাঁদাবাজি ও মানহানির; মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলছেন সাংবাদিকরা

সম্পাদকীয়: বগলে ইট, মুখে ঐক্যের বুলি: জামায়াতের ‘আসন-খেলার’ বলি কি ইসলামী আন্দোলন?

সর্বশেষ আপডেট : ০৩:২৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

​বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখনই ইসলামপন্থী শক্তির একটি বৃহত্তর ঐক্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখনই কোনো না কোনো অদৃশ্য সুতো সেই সম্ভাবনাকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। এবার সেই অভিযোগের তীর খোদ জামায়াতে ইসলামীর দিকে। পীর সাহেব চরমোনাইয়ের দেওয়া ‘এক বাক্স’ বা নির্বাচনী সমঝোতার ডাককে পুঁজি করে জামায়াত যে আসন বণ্টনের ফর্মুলা সাজিয়েছে, তা ঐক্যের চেয়ে বরং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে (আইএবি) রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করার একটি নিখুঁত চিত্রনাট্য বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

​দেশের রাজনীতির সমীকরণ বলে, জনভিত্তি আর ভোটব্যাংকের বিচারে ইসলামী আন্দোলন বর্তমানে যে অবস্থানে আছে, সেখানে জামায়াতের এই বণ্টন কেবল হাস্যকরই নয়, রীতিমতো অপমানজনক। যে এনসিপি কিংবা মামুনুল হকের দলের নির্বাচনী সামর্থ্য নিয়ে খোদ সমর্থকদের মধ্যেই সংশয় আছে, তাদের ঝুড়িতে ৩০ কিংবা ২০টি আসন ঢেলে দিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে ৪০-৪৫টি আসনে আটকে রাখা পুরোটাই কি কেবল অংক, নাকি সুদূরপ্রসারী কোনো ষড়যন্ত্র?

​সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, সমঝোতার আড়ালে ‘উন্মুক্ত আসন’ রাখার কৌশল। এর মাধ্যমে একদিকে হাতপাখার জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নস্যাৎ করা হচ্ছে, অন্যদিকে জোটের দায় ইসলামী আন্দোলনের ওপর চাপানোর পথ খোলা রাখা হয়েছে। জামায়াত কি তবে রাজপথের পরীক্ষিত এই শক্তিকে সরিয়ে আনকোরা এনসিপি-কে দ্বিতীয় প্রধান শক্তিতে রূপ দিতে চায়?

​রাজনৈতিক এই ‘দুষ্টবুদ্ধি’ কেবল একটি দলের ক্ষতি করবে না, বরং আসন্ন নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের উত্থানকেই অনিশ্চিত করে তুলবে। ইসলামী আন্দোলন ইতিমধ্যেই ২৮৬ আসনে প্রার্থী দিয়ে জামায়াতকে একটি বার্তা দিয়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত এই ‘এক বাক্স’ উদ্যোগ ব্যর্থ হয়, তবে তার দায়ভার জামায়াতকেই নিতে হবে। কারণ, বগলে ইট নিয়ে আর যাই হোক, অন্তত আদর্শিক সমঝোতা সম্ভব নয়।