মোঃ মমিনুল ইসলাম দিপু গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার করতেয়া, বাঙ্গালী ও আলাই নদী থেকে দীর্ঘ দিন ধরে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার অন্তত ৮ থেকে ১০টি স্থানে ইঞ্জিনচালিত শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র নদীর তলদেশ কেটে বালু তুলছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের একটি অংশের সঙ্গে মাসিক চুক্তির বিনিময়ে এই অবৈধ ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে—অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাঘাটা উপজেলার করতেয়া, বাঙ্গালী ও আলাই নদীর মসজিদের ঘাট, ত্রিমোহনী, কচুয়া ও হিন্দুপাড়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দিন-রাত ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত এসব বালু অবৈধ ট্রাক্টর ও যানবাহনের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হচ্ছে। এতে করে গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও রহস্যজনক কারণে কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর অভিযান চোখে পড়ছে না। ফলে অবৈধ বালু উত্তোলন যেন এক প্রকার ‘লাইসেন্সপ্রাপ্ত’ কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী শরিফ মিয়া বলেন, “অবৈধ ড্রেজার ব্যবহারের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাড়ছে নদীভাঙনের ঝুঁকি। হুমকির মুখে পড়েছে নদীপাড়ের ফসলি জমি, বসতভিটা ও গ্রামীণ সড়ক। ভারী বালুবাহী ট্রাক চলাচলে সড়ক নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে ধুলাবালির যন্ত্রণা ও জনভোগান্তি।”
নদীপাড়ের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “সরকারিভাবে নদী খননের পর আমরা ভেবেছিলাম আমাদের ঘরবাড়ি রক্ষা পাবে। কিন্তু এখন অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীতে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে, যা আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনছে।”
কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, “দিন-রাত ড্রেজারের শব্দ আর ট্রাক চলাচলের কারণে এখানে বসবাস করা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। বহুবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত অবৈধ ড্রেজার অপসারণ, বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আশরাফুল কবীর বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে। যারা আইন অমান্য করে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযান অব্যাহত রেখে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পরিবেশ সচেতন মহল মনে করছেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত ও দৃশ্যমান অভিযান, স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। তা না হলে নদী, পরিবেশ ও জনজীবনের ক্ষতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
স্টাফ রিপোর্টার 









