ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাথরঘাটায় নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে অর্থ বিতরণ: সংঘর্ষের পর লাঠির মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে জামায়াতের বিক্ষোভ

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৪৯ বার দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাথরঘাটা

বরগুনার পাথরঘাটায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ মিছিলে জাতীয় পতাকার চরম অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপের মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে মিছিল করায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ‘দাওয়াতি কার্যক্রমের’ নামে জামায়াত কর্মীদের অর্থ বিতরণের অভিযোগই এই সংঘর্ষের মূল কারণ বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

​লাঠি ও পাইপে জাতীয় পতাকা: চরম অবমাননার দৃশ্য

​সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে পাথরঘাটা পৌর শহরে জামায়াত সমর্থিত একদল ব্যক্তি এই বিক্ষোভ মিছিল বের করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা বাঁশের লাঠি এবং নোংরা প্লাস্টিকের পাইপের মাথায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বাঁধা ছিল। উত্তেজনাকর স্লোগান ও লাঠি উঁচিয়ে মিছিল করার সময় জাতীয় পতাকাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় অনেকেই এটিকে সংবিধান ও জাতীয় পতাকা বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং অবমাননা হিসেবে দেখছেন।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের মিছিলে জাতীয় পতাকাকে লাঠির মাথায় বেঁধে প্রদর্শন করা দেশের সার্বভৌম প্রতীকের অমর্যাদা।

​নেপথ্য কারণ: অর্থ বিতরণ ও নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন

​ঘটনার সূত্রপাত সোমবার বিকেলে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হাড়িটানা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে যে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জামায়াতে ইসলামীর একদল নারী কর্মী ‘দাওয়াতি কার্যক্রমের’ আড়ালে গোপনে সাধারণ মানুষের মাঝে অর্থ বিতরণ করছিলেন।

​এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে তাদের বাধা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত নুর আলমের বাড়ির সামনে এই অর্থ বিতরণকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে জামায়াত নেতা নাসির উদ্দিন (৫ নম্বর ওয়ার্ড বাইতুলমাল সম্পাদক) সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে সংঘর্ষ বাধে এবং নাসির উদ্দিন আহত হন। বর্তমানে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

​পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক এই ঘটনায় তাদের দলের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং স্থানীয়দের সাথে তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ। অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের দলের কোনো পদধারী নন। জামায়াত সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আক্রোশকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।”

​অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মাসুদুল আলম লাঠি মিছিলে পতাকার ব্যবহারের দায় এড়িয়ে একে “বিক্ষুব্ধ জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ” বলে দাবি করেছেন। তবে অর্থের বিনিময়ে ভোটার প্রভাবিত করার অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।

​পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা জানান, জাতীয় পতাকা অবমাননা এবং সংঘর্ষের বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

​এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত জাহানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিদেশে নেওয়ার প্রলোভনে ৪০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ, টাকা ফেরতের দাবিতে গোপালগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন

পাথরঘাটায় নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে অর্থ বিতরণ: সংঘর্ষের পর লাঠির মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে জামায়াতের বিক্ষোভ

সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাথরঘাটা

বরগুনার পাথরঘাটায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ মিছিলে জাতীয় পতাকার চরম অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপের মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে মিছিল করায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ‘দাওয়াতি কার্যক্রমের’ নামে জামায়াত কর্মীদের অর্থ বিতরণের অভিযোগই এই সংঘর্ষের মূল কারণ বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

​লাঠি ও পাইপে জাতীয় পতাকা: চরম অবমাননার দৃশ্য

​সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে পাথরঘাটা পৌর শহরে জামায়াত সমর্থিত একদল ব্যক্তি এই বিক্ষোভ মিছিল বের করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা বাঁশের লাঠি এবং নোংরা প্লাস্টিকের পাইপের মাথায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বাঁধা ছিল। উত্তেজনাকর স্লোগান ও লাঠি উঁচিয়ে মিছিল করার সময় জাতীয় পতাকাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় অনেকেই এটিকে সংবিধান ও জাতীয় পতাকা বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং অবমাননা হিসেবে দেখছেন।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের মিছিলে জাতীয় পতাকাকে লাঠির মাথায় বেঁধে প্রদর্শন করা দেশের সার্বভৌম প্রতীকের অমর্যাদা।

​নেপথ্য কারণ: অর্থ বিতরণ ও নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন

​ঘটনার সূত্রপাত সোমবার বিকেলে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হাড়িটানা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে যে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জামায়াতে ইসলামীর একদল নারী কর্মী ‘দাওয়াতি কার্যক্রমের’ আড়ালে গোপনে সাধারণ মানুষের মাঝে অর্থ বিতরণ করছিলেন।

​এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে তাদের বাধা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত নুর আলমের বাড়ির সামনে এই অর্থ বিতরণকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে জামায়াত নেতা নাসির উদ্দিন (৫ নম্বর ওয়ার্ড বাইতুলমাল সম্পাদক) সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে সংঘর্ষ বাধে এবং নাসির উদ্দিন আহত হন। বর্তমানে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

​পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক এই ঘটনায় তাদের দলের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং স্থানীয়দের সাথে তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ। অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের দলের কোনো পদধারী নন। জামায়াত সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আক্রোশকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।”

​অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মাসুদুল আলম লাঠি মিছিলে পতাকার ব্যবহারের দায় এড়িয়ে একে “বিক্ষুব্ধ জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ” বলে দাবি করেছেন। তবে অর্থের বিনিময়ে ভোটার প্রভাবিত করার অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।

​পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা জানান, জাতীয় পতাকা অবমাননা এবং সংঘর্ষের বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

​এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত জাহানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।