ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসন সমঝোতার নামে ‘রাজনৈতিক তামাশা’, জনআকাঙ্ক্ষা কি কেবলই রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে বন্দি?

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৩৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৪৬ বার দেখেছেন

​সম্পাদকীয় | ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬
​আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এদেশের ইসলামপ্রিয় ও সাধারণ জনগণের মাঝে এক অভূতপূর্ব ঐক্যের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। রাজপথের দীর্ঘ লড়াই আর পটপরিবর্তনের পর মানুষের ধারণা ছিল বিগত দিনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ইসলামী ও সমমনা দলগুলো অন্তত এবার একটি সিসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠন করবে।

কিন্তু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও ‘আসন সমঝোতা’ বা ‘একক প্রার্থী’র ঘোষণা না আসায় সেই আশার পালে এখন আশঙ্কার হাওয়া বইছে। প্রশ্ন উঠছে, এই বিলম্ব কি কৌশলগত, নাকি এটি তৃণমূলের আবেগ নিয়ে এক প্রকার ‘রাজনৈতিক তামাশা’?

​গুজবের অভয়ারণ্য ও সোশ্যাল মিডিয়ার অস্থিরতা
সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যত বিলম্ব হচ্ছে, ডিজিটাল দুনিয়ায় গুজব ততই ডালপালা মেলছে। বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রতিদিন ‘সমঝোতা ভেঙে গেছে’ অথবা ‘অমুক দল এতটি আসন নিশ্চিত করেছে’, এমন মনগড়া তালিকার ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে।

নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে উভয় দলের সাধারণ সমর্থকরা একে অপরের সাথে ভার্চুয়াল যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছেন। এই কাদা ছোড়াছুড়ি কেবল অনৈক্যই বাড়াচ্ছে না, বরং সাধারণ ভোটারদের কাছে ইসলামী জোটের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক মোর্চার পক্ষ থেকে তথ্যের এই শূন্যতা বজায় রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

​তৃণমূলের ক্ষোভ ও বাস্তব চিত্র
আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা। অথচ মাঠপর্যায়ে এখনো চরম অনিশ্চয়তা। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো বড় দলগুলোর কর্মীরা অনেক আসনেই মুখোমুখি অবস্থানে। কে কার জন্য মাঠ ছেড়ে দেবেন, নাকি শেষ পর্যন্ত সবাই সবার বিরুদ্ধে লড়বেন, এই ধোঁয়াশা তৃণমূলের ভ্রাতৃত্ববোধকে নষ্ট করছে। প্রচারণার সরঞ্জাম তৈরি থেকে শুরু করে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে এই বিলম্ব কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তহীনতা কি শেষ পর্যন্ত ভোট বিভাজনের মাধ্যমে তৃতীয় কোনো পক্ষকে সুবিধা করে দেবে না?

​ঐক্যের নামে কালক্ষেপণ কি আত্মঘাতী?
রাজনীতিতে দরকষাকষি থাকবেই, কিন্তু সেটি যেন জনগণের সেন্টিমেন্টকে পদদলিত না করে। সমঝোতার টেবিলে আসন সংখ্যার হিসাব যখন আদর্শিক ঐক্যের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন সাধারণ মানুষ তাকে ‘স্বার্থের লড়াই’ হিসেবেই গণ্য করে। নির্বাচনী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সময় খুবই সংকীর্ণ। ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর আগেই যদি একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ জনগণের সামনে না আসে, তবে এই ‘সমঝোতা’ কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

​মোদ্দা কথা 
সময় এখন কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বুঝতে হবে, এবারের নির্বাচন কেবল জয়-পরাজয়ের নয়, বরং তাদের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সততা প্রমাণের পরীক্ষা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গুজব রুখতে এবং তৃণমূলের ক্ষোভ প্রশমনে দ্রুত একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অপরিহার্য। জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে যদি তারা একটি টেকসই ঐক্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে ইতিহাসের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে। মনে রাখতে হবে, নেতৃত্বের দ্বিধা যখন জনগণের প্রত্যাশাকে তুচ্ছ করে, তখন সেই রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে জনবিচ্ছিন্নতায় রূপ নেয়।

বিদেশে নেওয়ার প্রলোভনে ৪০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ, টাকা ফেরতের দাবিতে গোপালগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন

আসন সমঝোতার নামে ‘রাজনৈতিক তামাশা’, জনআকাঙ্ক্ষা কি কেবলই রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে বন্দি?

সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৩৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

​সম্পাদকীয় | ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬
​আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এদেশের ইসলামপ্রিয় ও সাধারণ জনগণের মাঝে এক অভূতপূর্ব ঐক্যের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। রাজপথের দীর্ঘ লড়াই আর পটপরিবর্তনের পর মানুষের ধারণা ছিল বিগত দিনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ইসলামী ও সমমনা দলগুলো অন্তত এবার একটি সিসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠন করবে।

কিন্তু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও ‘আসন সমঝোতা’ বা ‘একক প্রার্থী’র ঘোষণা না আসায় সেই আশার পালে এখন আশঙ্কার হাওয়া বইছে। প্রশ্ন উঠছে, এই বিলম্ব কি কৌশলগত, নাকি এটি তৃণমূলের আবেগ নিয়ে এক প্রকার ‘রাজনৈতিক তামাশা’?

​গুজবের অভয়ারণ্য ও সোশ্যাল মিডিয়ার অস্থিরতা
সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যত বিলম্ব হচ্ছে, ডিজিটাল দুনিয়ায় গুজব ততই ডালপালা মেলছে। বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রতিদিন ‘সমঝোতা ভেঙে গেছে’ অথবা ‘অমুক দল এতটি আসন নিশ্চিত করেছে’, এমন মনগড়া তালিকার ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে।

নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে উভয় দলের সাধারণ সমর্থকরা একে অপরের সাথে ভার্চুয়াল যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছেন। এই কাদা ছোড়াছুড়ি কেবল অনৈক্যই বাড়াচ্ছে না, বরং সাধারণ ভোটারদের কাছে ইসলামী জোটের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক মোর্চার পক্ষ থেকে তথ্যের এই শূন্যতা বজায় রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

​তৃণমূলের ক্ষোভ ও বাস্তব চিত্র
আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা। অথচ মাঠপর্যায়ে এখনো চরম অনিশ্চয়তা। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো বড় দলগুলোর কর্মীরা অনেক আসনেই মুখোমুখি অবস্থানে। কে কার জন্য মাঠ ছেড়ে দেবেন, নাকি শেষ পর্যন্ত সবাই সবার বিরুদ্ধে লড়বেন, এই ধোঁয়াশা তৃণমূলের ভ্রাতৃত্ববোধকে নষ্ট করছে। প্রচারণার সরঞ্জাম তৈরি থেকে শুরু করে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে এই বিলম্ব কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তহীনতা কি শেষ পর্যন্ত ভোট বিভাজনের মাধ্যমে তৃতীয় কোনো পক্ষকে সুবিধা করে দেবে না?

​ঐক্যের নামে কালক্ষেপণ কি আত্মঘাতী?
রাজনীতিতে দরকষাকষি থাকবেই, কিন্তু সেটি যেন জনগণের সেন্টিমেন্টকে পদদলিত না করে। সমঝোতার টেবিলে আসন সংখ্যার হিসাব যখন আদর্শিক ঐক্যের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন সাধারণ মানুষ তাকে ‘স্বার্থের লড়াই’ হিসেবেই গণ্য করে। নির্বাচনী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সময় খুবই সংকীর্ণ। ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর আগেই যদি একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ জনগণের সামনে না আসে, তবে এই ‘সমঝোতা’ কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

​মোদ্দা কথা 
সময় এখন কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বুঝতে হবে, এবারের নির্বাচন কেবল জয়-পরাজয়ের নয়, বরং তাদের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সততা প্রমাণের পরীক্ষা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গুজব রুখতে এবং তৃণমূলের ক্ষোভ প্রশমনে দ্রুত একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অপরিহার্য। জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে যদি তারা একটি টেকসই ঐক্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে ইতিহাসের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে। মনে রাখতে হবে, নেতৃত্বের দ্বিধা যখন জনগণের প্রত্যাশাকে তুচ্ছ করে, তখন সেই রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে জনবিচ্ছিন্নতায় রূপ নেয়।