ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের সম্পদ বেড়েছে

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০০:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৫৩ বার দেখেছেন

স্টাফ রিপোর্টার: শফিকুজ্জামান সোহেল

‎জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরের গত দুই বছরের ব্যবধানে নগদ অর্থ ও মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে এবং তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের নগদ টাকার পরিমাণ কমেছে। একই সঙ্গে জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১২টি ফৌজদারি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

‎হলফনামা অনুযায়ী, জি এম কাদের রংপুর-৩ সংসদীয় আসন (সদর ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১০ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড) থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

‎জি এম কাদের নিজের পেশা হিসেবে হলফনামায় রাজনীতিবিদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান উল্লেখ করেছেন এবং স্ত্রী শেরীফা কাদেরের পেশা দেখিয়েছেন সংগীতশিল্পী ও ব্যবসায়ী। তাদের নামে কোনো কৃষিজমি নেই। লালমনিরহাট ও ঢাকায় বাড়ি রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য দুই কোটি টাকার বেশি।

‎হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জি এম কাদেরের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৬০ লাখ ৩২ হাজার ৪০৫ টাকা। দুই বছর আগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তার নগদ অর্থ ছিল ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৩ টাকা এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় ছিল ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৩ টাকা।

‎অন্যদিকে, দুই বছর আগে জি এম কাদেরের স্ত্রী শেরীফা কাদেরের নগদ ছিল ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬৩ টাকা, যা এবারে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ৯৩৮ টাকায়। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তার নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২৭ লাখ ৬৪ হাজার ৭০১ টাকা।

‎হলফনামায় দেখা গেছে, দুই বছর আগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় যেসব গাড়ির মূল্য উল্লেখ করা হয়েছিল, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও একই মূল্য দেখানো হয়েছে। কৃষি, বাড়িভাড়া কিংবা ব্যবসা থেকে জি এম কাদের কোনো আয় দেখাননি। তবে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে প্রাপ্ত ভাতা থেকে তিনি আয় করেছেন ২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

‎এ ছাড়া শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক জামানত থেকে জি এম কাদেরের আয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর আয় ৭৯ হাজার ৭৪১ টাকা। শেরীফা কাদের ব্যবসা থেকে বছরে ৬ লাখ টাকা আয় করেন বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।

‎জি এম কাদেরের নামে সঞ্চয়পত্র ও ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে ৪০ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৬৮ টাকা। অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য হিসেবে জি এম কাদেরের দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং শেরীফা কাদেরের সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে লালমনিরহাট ও ঢাকায় জি এম কাদেরের নামে থাকা বাড়ির মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর ঢাকায় থাকা বাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে ৭০ লাখ টাকা।

‎হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে মোট ১২টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যেগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ ১২ লাখ টাকা।

‎রাজনৈতিক জীবনে জি এম কাদের ছয়বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে একবার পরাজিত হয়েছেন। তিনি লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি ওই আসনে পরাজিত হন। এছাড়া রংপুর-৩ আসন থেকে তিনি ২০০১ ও ২০২৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সম্পদের উৎস নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা অভিযোগ চাঁদাবাজি ও মানহানির; মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলছেন সাংবাদিকরা

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের সম্পদ বেড়েছে

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০০:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: শফিকুজ্জামান সোহেল

‎জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরের গত দুই বছরের ব্যবধানে নগদ অর্থ ও মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে এবং তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের নগদ টাকার পরিমাণ কমেছে। একই সঙ্গে জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১২টি ফৌজদারি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

‎হলফনামা অনুযায়ী, জি এম কাদের রংপুর-৩ সংসদীয় আসন (সদর ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১০ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড) থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

‎জি এম কাদের নিজের পেশা হিসেবে হলফনামায় রাজনীতিবিদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান উল্লেখ করেছেন এবং স্ত্রী শেরীফা কাদেরের পেশা দেখিয়েছেন সংগীতশিল্পী ও ব্যবসায়ী। তাদের নামে কোনো কৃষিজমি নেই। লালমনিরহাট ও ঢাকায় বাড়ি রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য দুই কোটি টাকার বেশি।

‎হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জি এম কাদেরের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৬০ লাখ ৩২ হাজার ৪০৫ টাকা। দুই বছর আগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তার নগদ অর্থ ছিল ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৩ টাকা এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় ছিল ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৩ টাকা।

‎অন্যদিকে, দুই বছর আগে জি এম কাদেরের স্ত্রী শেরীফা কাদেরের নগদ ছিল ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬৩ টাকা, যা এবারে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ৯৩৮ টাকায়। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তার নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২৭ লাখ ৬৪ হাজার ৭০১ টাকা।

‎হলফনামায় দেখা গেছে, দুই বছর আগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় যেসব গাড়ির মূল্য উল্লেখ করা হয়েছিল, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও একই মূল্য দেখানো হয়েছে। কৃষি, বাড়িভাড়া কিংবা ব্যবসা থেকে জি এম কাদের কোনো আয় দেখাননি। তবে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে প্রাপ্ত ভাতা থেকে তিনি আয় করেছেন ২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

‎এ ছাড়া শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক জামানত থেকে জি এম কাদেরের আয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর আয় ৭৯ হাজার ৭৪১ টাকা। শেরীফা কাদের ব্যবসা থেকে বছরে ৬ লাখ টাকা আয় করেন বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।

‎জি এম কাদেরের নামে সঞ্চয়পত্র ও ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে ৪০ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৬৮ টাকা। অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য হিসেবে জি এম কাদেরের দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং শেরীফা কাদেরের সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে লালমনিরহাট ও ঢাকায় জি এম কাদেরের নামে থাকা বাড়ির মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর ঢাকায় থাকা বাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে ৭০ লাখ টাকা।

‎হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে মোট ১২টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যেগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ ১২ লাখ টাকা।

‎রাজনৈতিক জীবনে জি এম কাদের ছয়বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে একবার পরাজিত হয়েছেন। তিনি লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি ওই আসনে পরাজিত হন। এছাড়া রংপুর-৩ আসন থেকে তিনি ২০০১ ও ২০২৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।