তানভীর আজাদ
জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ কুঠিবাড়ি ঘিরে আবারও জেগে উঠেছে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় অনুষ্ঠানমালা। শুক্রবার সকাল থেকেই কুঠিবাড়ি এলাকায় ভিড় করেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দর্শনার্থী, সাহিত্যপ্রেমী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়োজনের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। উদ্বোধনের পর তিনি কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কুঠিবাড়ি ঘুরে দেখেন এবং সেখানে সংরক্ষিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা এবং কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য সৌহরাব উদ্দিনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
“শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান। স্মারক বক্তা ছিলেন অধ্যাপক ড. ওয়াকিল আহমেদ।
তিন দিনের এ আয়োজনে রয়েছে রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশনা, আলোচনা সভা ও মঞ্চনাটক। সন্ধ্যা নামতেই সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণ। শিল্পীদের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত আর আবৃত্তিতে দর্শনার্থীরা মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুঠিবাড়ির সামনের মাঠে তৈরি করা হয়েছে সুসজ্জিত মঞ্চ। পুরো এলাকায় আঁকা হয়েছে আলপনা। নতুন সাজে সাজানো হয়েছে কুঠিবাড়ির আশপাশ। আগত দর্শনার্থীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঐতিহাসিক এ স্থানটি।
কুমারখালীর শিক্ষক মো. আশিকুর রহমান বলেন, “রবীন্দ্রনাথ শুধু সাহিত্যিক নন, তিনি বাঙালির সংস্কৃতি ও চেতনার প্রতীক। তাঁর জন্মদিন ঘিরে এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।”
দৌলতপুর থেকে আসা দর্শনার্থী রাসেল রেজা বলেন, “শিলাইদহের অনুষ্ঠান নিয়ে অনেক শুনেছি। এবার সরাসরি এসে দেখলাম, সত্যিই পরিবেশটা অন্যরকম।”
শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মো. আল আমিন জানান, অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে এবার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলার আয়োজন রাখা হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
জানা যায়, জমিদারি তদারকির দায়িত্বে ১৮৯১ সালে শিলাইদহে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পদ্মাপাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এখানে রচনা করেন বাংলা সাহিত্যের বহু কালজয়ী সৃষ্টি। তাঁর সেই স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়ি আজও সাহিত্যপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে আছে।
স্টাফ রিপোর্টার 









