ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুর নিরাপত্তায় ‘হাম’ নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার ডাক: জেনে নিন লক্ষণ ও প্রতিকার

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১২৩ বার দেখেছেন

​মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা

ফার্মেসী টেকনিশিয়ান

 

​বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে সংক্রামক ব্যাধি ‘হাম’ বা মিজেলস-এর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। ভাইরাসজনিত এই রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় সঠিক সময়ে শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এটি শিশুদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতাই পারে এই রোগের প্রকোপ থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে।

 

​হাম কী এবং কীভাবে ছড়ায়?
​হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে বাতাসের সাহায্যে সুস্থ শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এবং টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে এর সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

​শনাক্ত করার প্রধান লক্ষণসমূহ
​চিকিৎসকদের মতে, হামের কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ রয়েছে যা দেখে অভিভাবকরা সহজেই রোগটি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।

 

ছবির তথ্য অনুযায়ী এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো:

তীব্র জ্বর: সংক্রমণের শুরুতেই শিশুর শরীরে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর দেখা দেয়।
​র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি: জ্বর শুরুর কয়েকদিন পর মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে ছোট ছোট দানা বা র‍্যাশ ছড়িয়ে পড়ে।

 

​সর্দি ও কাশি: অনবরত নাক দিয়ে পানি পড়া এবং খুসখুসে কাশি হওয়া হামের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ।
​মুখের ভেতর সাদা দাগ: হামের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো গালের ভেতরের অংশে ছোট ছোট লবণের দানার মতো সাদা দাগ (Koplik’s Spots) দেখা যাওয়া।

 

​জটিলতা ও ঝুঁকি

​সময়মতো চিকিৎসা না করালে হাম থেকে শিশুর নিউমোনিয়া, কানে ইনফেকশন, দীর্ঘমেয়াদী অপুষ্টি, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

 

​চিকিৎসকদের পরামর্শ ও করণীয়
​হাম আক্রান্ত শিশুর সুশ্রূষায় ডাক্তাররা কিছু জরুরি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন:

১. বিচ্ছিন্নকরণ: আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ শিশুদের থেকে আলাদা রাখা যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।

২. তরল খাবার: প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের রস এবং সুষম খাবার নিশ্চিত করা।

৩. বিশ্রাম: শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখা এবং ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।

৪. টিকা নিশ্চিত করা: হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্দিষ্ট সময়ে এমআর (MR) টিকা গ্রহণ করা।

 

​বিশেষজ্ঞ মন্তব্য:

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, “হাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে অবহেলা করাও বিপজ্জনক। শিশুর শরীরে র‍্যাশ বা জ্বরের সাথে অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করতে হবে এবং সরকারি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুকে নিয়মিত টিকা দিতে হবে।”

 

​শিশুর সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য আপনার সচেতনতাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

সম্পদের উৎস নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা অভিযোগ চাঁদাবাজি ও মানহানির; মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলছেন সাংবাদিকরা

শিশুর নিরাপত্তায় ‘হাম’ নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার ডাক: জেনে নিন লক্ষণ ও প্রতিকার

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

​মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা

ফার্মেসী টেকনিশিয়ান

 

​বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে সংক্রামক ব্যাধি ‘হাম’ বা মিজেলস-এর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। ভাইরাসজনিত এই রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় সঠিক সময়ে শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এটি শিশুদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতাই পারে এই রোগের প্রকোপ থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে।

 

​হাম কী এবং কীভাবে ছড়ায়?
​হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে বাতাসের সাহায্যে সুস্থ শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এবং টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে এর সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

​শনাক্ত করার প্রধান লক্ষণসমূহ
​চিকিৎসকদের মতে, হামের কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ রয়েছে যা দেখে অভিভাবকরা সহজেই রোগটি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।

 

ছবির তথ্য অনুযায়ী এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো:

তীব্র জ্বর: সংক্রমণের শুরুতেই শিশুর শরীরে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর দেখা দেয়।
​র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি: জ্বর শুরুর কয়েকদিন পর মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে ছোট ছোট দানা বা র‍্যাশ ছড়িয়ে পড়ে।

 

​সর্দি ও কাশি: অনবরত নাক দিয়ে পানি পড়া এবং খুসখুসে কাশি হওয়া হামের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ।
​মুখের ভেতর সাদা দাগ: হামের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো গালের ভেতরের অংশে ছোট ছোট লবণের দানার মতো সাদা দাগ (Koplik’s Spots) দেখা যাওয়া।

 

​জটিলতা ও ঝুঁকি

​সময়মতো চিকিৎসা না করালে হাম থেকে শিশুর নিউমোনিয়া, কানে ইনফেকশন, দীর্ঘমেয়াদী অপুষ্টি, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

 

​চিকিৎসকদের পরামর্শ ও করণীয়
​হাম আক্রান্ত শিশুর সুশ্রূষায় ডাক্তাররা কিছু জরুরি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন:

১. বিচ্ছিন্নকরণ: আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ শিশুদের থেকে আলাদা রাখা যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।

২. তরল খাবার: প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের রস এবং সুষম খাবার নিশ্চিত করা।

৩. বিশ্রাম: শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখা এবং ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।

৪. টিকা নিশ্চিত করা: হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্দিষ্ট সময়ে এমআর (MR) টিকা গ্রহণ করা।

 

​বিশেষজ্ঞ মন্তব্য:

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, “হাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে অবহেলা করাও বিপজ্জনক। শিশুর শরীরে র‍্যাশ বা জ্বরের সাথে অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করতে হবে এবং সরকারি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুকে নিয়মিত টিকা দিতে হবে।”

 

​শিশুর সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য আপনার সচেতনতাই এখন সবচেয়ে জরুরি।