নিজস্ব প্রতিবেদক গোপালগঞ্জ,
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ভূমি অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে নানা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্লাহ। ভূমি অফিসে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমানো, অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ করা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ভূমি সেবা পেতে যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের অনিয়ম বা হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য ভূমি অফিসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গণশুনানি চালু করা হয়েছে।পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে অফিস প্রাঙ্গণে অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। এতে ভূমি সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির শিকার হলে ভুক্তভোগীরা সহজেই তাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন।
ইতোমধ্যে উপজেলা ভূমি অফিসসহ সব ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই এবং কেউ অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (০৯ মার্চ) আওয়ারবাংলা২৪ কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুম বিল্লাহ বলেন, জমির নামজারির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন ফি ১০০০ টাকা এবং মিউটেশন খতিয়ান ফি ১০০ টাকাসহ সর্বমোট ১১৭০ টাকা লাগে। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি কোনো কর্মকর্তা বা মধ্যস্থতাকারী এর বেশি টাকা দাবি করে, তাহলে তা সম্পূর্ণ বেআইনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল ও আধুনিক করা হয়েছে। এখন একজন আবেদনকারী ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে জমির নামজারির আবেদন করতে পারেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহার না করে অন্য কারও নম্বর ব্যবহার করেন। এতে মধ্যস্থতাকারীরা সুযোগ নিয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে পারে এবং অনেক সময় সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হন।
এসিল্যান্ড মাসুম বিল্লাহ বলেন, ভূমি সেবা মানুষের মৌলিক সেবাগুলোর একটি। তাই এই সেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কোনো নাগরিক যেন দালাল বা অসাধু চক্রের মাধ্যমে হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
তিনি ভুক্তভোগীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেউ যদি অযথা হয়রানির শিকার হন বা কোনো কর্মকর্তা সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন, তাহলে সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
উপজেলার সচেতন মহল মনে করছে, এসিল্যান্ড মাসুম বিল্লাহর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কোটালীপাড়ার ভূমি অফিসে দীর্ঘদিনের দালালচক্রের প্রভাব অনেকটাই কমে আসবে। এতে সাধারণ মানুষ সহজে, দ্রুত ও কম খরচে সরকারি ভূমি সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
মোঃ আবিদ হাসান মুছা 









