ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোবিপ্রবিতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের প্রতিবাদে ছাত্রজনতার মানববন্ধন-

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২০৯ বার দেখেছেন

মোঃ রাশেদ মাহমুদ,নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

 

ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের প্রতিবাদে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের সভাপতি ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ফিমস বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক ড. জাহাঙ্গীর সরকার, বিবিএ বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ড.মাসুদ কাইয়ুম, ছাত্রদলের সভাপতি, সেক্রেটারি, সাবেক সমন্বয়ক ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আসলে আমরা শিক্ষকরা এখানে এসেছি আমাদের সাধারণ ছাত্ররা যে মানববন্ধন দিয়েছে সেটার সাথে একমত পোষণ করার জন্য। আমরাও ফ্যাসিস্টের পুনর্বাসন চাই না।

আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় ভালোভাবে চলুক। বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক প্রোগ্রাম ভালোভাবে চলুক। তবে আমাদের প্রশাসনে যে দুর্নীতি, জামায়াতিকরণ এবং ফ্যাসিস্টের পুনর্বাসন সবগুলোর বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলনে আছি। আমরা মনে করিয়ে যে প্রশাসন ফ্যাসিস্টদের নিয়ে যেভাবে লুকোচুরি খেলছে যে অনেকেই আজকাল ফেসবুক বা সোশাল মিডিয়ায় প্রশাসনকে নিয়ে হাঁসি ঠাট্টা করতেছে, প্রশাসন হাসিঠাট্টার একটা ব্যাপারে পরিণত হয়েছে, ইঁদুর-বিড়াল খেলা খেলছে। আমরা আশা রাখছি যে, আমরা যে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছি সে বিষয়ে প্রশাসনের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা যে ফ্যাসিস্টের পুনর্বাসন করতেছে এইটাও তাদের বিপক্ষে গিয়েছে। এবং আশা রাখি যে শীঘ্র তারা শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে পদত্যাগ করবে এবং এই ক্যাম্পাস মুক্ত করে চলে যাবে এই আমার কামনা।

বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার বলেন, “আমরা মব কালচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। প্রশাসন যাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে, তাদের তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নেই অপরাধ করলে বিচার হবে। কিন্তু প্রশাসন তা করেনি। যখন আমরা অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করি, তখনই ফ্যাসিবাদের দোসরদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে।”

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন,“আমি আমার ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্রসংগঠনের নেতাদের আহ্বান জানিয়েছিলাম এসো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একত্রে আওয়াজ তুলি, ক্যাম্পাস ফ্যাসিবাদমুক্ত করি। আশ্বাস দিয়েও তারা আসেনি। এটা কী বার্তা? তারা কি ফ্যাসিবাদের পক্ষ নেবে?”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “জুলাই পরবর্তী এ ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদের পক্ষ যারা নিবে তাদের রাজনীতি কঠিন করে দেব। ৫ আগস্টের পর একজন ছাত্রলীগ, শিক্ষক বা কর্মকর্তার বিচার হয়েছে কি?

উপাচার্যকে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসর, শেখ হাসিনার ডান-বাম হাত যারা অপরাজনীতি শুরু করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিয়েছেন কি?”

তিনি আরো বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, একাডেমিক জীবন বিপন্ন করা শিক্ষক-কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসে কিভাবে নিরাপদে প্রবেশ করে? গতকাল ও গত সপ্তাহে ফ্যাসিবাদের দোসরদের প্রবেশের অনুমতি কে দিয়েছে?

সিসি টিভি ফুটেজ দেখে তাদেরকে শনাক্ত করার ও জোর দাবি জানান তিনি।

স বশেষে তিনি শহিদ হাদীর চেতনা বুকে ধারণ করে ক্যাম্পাস ফ্যাসিবাদমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং কোনো অপশক্তির সাথে আপোষ করবেন বলেও জানান।

 

এ মানববন্ধনের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে প্রশাসনের দ্রুত পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।

সম্পদের উৎস নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা অভিযোগ চাঁদাবাজি ও মানহানির; মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলছেন সাংবাদিকরা

নোবিপ্রবিতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের প্রতিবাদে ছাত্রজনতার মানববন্ধন-

সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোঃ রাশেদ মাহমুদ,নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

 

ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের প্রতিবাদে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের সভাপতি ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ফিমস বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক ড. জাহাঙ্গীর সরকার, বিবিএ বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ড.মাসুদ কাইয়ুম, ছাত্রদলের সভাপতি, সেক্রেটারি, সাবেক সমন্বয়ক ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আসলে আমরা শিক্ষকরা এখানে এসেছি আমাদের সাধারণ ছাত্ররা যে মানববন্ধন দিয়েছে সেটার সাথে একমত পোষণ করার জন্য। আমরাও ফ্যাসিস্টের পুনর্বাসন চাই না।

আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় ভালোভাবে চলুক। বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক প্রোগ্রাম ভালোভাবে চলুক। তবে আমাদের প্রশাসনে যে দুর্নীতি, জামায়াতিকরণ এবং ফ্যাসিস্টের পুনর্বাসন সবগুলোর বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলনে আছি। আমরা মনে করিয়ে যে প্রশাসন ফ্যাসিস্টদের নিয়ে যেভাবে লুকোচুরি খেলছে যে অনেকেই আজকাল ফেসবুক বা সোশাল মিডিয়ায় প্রশাসনকে নিয়ে হাঁসি ঠাট্টা করতেছে, প্রশাসন হাসিঠাট্টার একটা ব্যাপারে পরিণত হয়েছে, ইঁদুর-বিড়াল খেলা খেলছে। আমরা আশা রাখছি যে, আমরা যে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছি সে বিষয়ে প্রশাসনের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা যে ফ্যাসিস্টের পুনর্বাসন করতেছে এইটাও তাদের বিপক্ষে গিয়েছে। এবং আশা রাখি যে শীঘ্র তারা শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে পদত্যাগ করবে এবং এই ক্যাম্পাস মুক্ত করে চলে যাবে এই আমার কামনা।

বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার বলেন, “আমরা মব কালচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। প্রশাসন যাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে, তাদের তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নেই অপরাধ করলে বিচার হবে। কিন্তু প্রশাসন তা করেনি। যখন আমরা অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করি, তখনই ফ্যাসিবাদের দোসরদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে।”

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন,“আমি আমার ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্রসংগঠনের নেতাদের আহ্বান জানিয়েছিলাম এসো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একত্রে আওয়াজ তুলি, ক্যাম্পাস ফ্যাসিবাদমুক্ত করি। আশ্বাস দিয়েও তারা আসেনি। এটা কী বার্তা? তারা কি ফ্যাসিবাদের পক্ষ নেবে?”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “জুলাই পরবর্তী এ ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদের পক্ষ যারা নিবে তাদের রাজনীতি কঠিন করে দেব। ৫ আগস্টের পর একজন ছাত্রলীগ, শিক্ষক বা কর্মকর্তার বিচার হয়েছে কি?

উপাচার্যকে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসর, শেখ হাসিনার ডান-বাম হাত যারা অপরাজনীতি শুরু করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিয়েছেন কি?”

তিনি আরো বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, একাডেমিক জীবন বিপন্ন করা শিক্ষক-কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসে কিভাবে নিরাপদে প্রবেশ করে? গতকাল ও গত সপ্তাহে ফ্যাসিবাদের দোসরদের প্রবেশের অনুমতি কে দিয়েছে?

সিসি টিভি ফুটেজ দেখে তাদেরকে শনাক্ত করার ও জোর দাবি জানান তিনি।

স বশেষে তিনি শহিদ হাদীর চেতনা বুকে ধারণ করে ক্যাম্পাস ফ্যাসিবাদমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং কোনো অপশক্তির সাথে আপোষ করবেন বলেও জানান।

 

এ মানববন্ধনের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে প্রশাসনের দ্রুত পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।