নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া।
কুষ্টিয়া শহরের ছয়রাস্তা মোড়ে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার সমর্থক ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এবং গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার পক্ষে কুষ্টিয়া সদর থানায় এই এজাহারটি জমা দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল হক নুর ও রাশেদ খানকে নিয়ে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার কথিত বক্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় শহরের ছয়রাস্তা মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ডেকেছিল জেলা গণঅধিকার পরিষদ।
ঠিক একই সময়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে নিজের গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তাঁর গাড়িটি ছয়রাস্তা মোড় এলাকায় গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ মিছিলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা শুরু হয়। মুহূর্তেই সেই উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এর রেশ ধরে পরবর্তীতে গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে ছয়রাস্তা মোড় এবং আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার পক্ষে থানায় একটি এজাহার জমা পড়েছে। পুলিশ এজাহারটি গুরুত্বসহকারে যাচাই-বাছাই করছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এই সংঘর্ষের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তানভীর আজাদ । 



