নিজস্ব প্রতিবেদক:
তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে কম্পিউটার শিক্ষা এখন আর বিলাসিতা নয়; বরং শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এটি একটি অপরিহার্য দক্ষতা। শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রযুক্তিগত শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বগুড়ার অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠান হৃদয় কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং সেন্টার।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করেছেন। তাদের অনেকেই বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা, চাকরি ও বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন।
বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কাছে কম্পিউটার শিক্ষা সহজলভ্য করে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। একসময় প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের উন্নত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে শহরমুখী হতে হতো। এতে সময় ও অর্থ—দুটিই ব্যয় হতো। হৃদয় কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার ফলে এখন স্থানীয় শিক্ষার্থীরা নিজেদের এলাকার কাছেই প্রযুক্তিগত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
সীমাবাড়ী ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের একটি নির্ভরযোগ্য ও আস্থার ঠিকানা হিসেবে পরিচিত। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও প্রতিষ্ঠানটির ওপর আস্থা রাখছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রযুক্তিগত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাম ও শহরের প্রযুক্তিগত শিক্ষার ব্যবধান কমাতেও ভূমিকা রাখছে।
প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীদের সরকারি সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। ফলে প্রশিক্ষণার্থীরা নিজেদের অর্জিত দক্ষতার একটি স্বীকৃত প্রমাণপত্র পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের শিক্ষা ও কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মহিলা শিক্ষিকাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষিকাদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি একটি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে শুধু কম্পিউটার ব্যবহার শেখানো নয়, বরং শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সঙ্গে পরিচিত করে তোলা এবং কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহযোগিতা করা হচ্ছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার নতুন সুযোগ পাচ্ছেন।
নারী উদ্যোক্তার নেতৃত্বে দীর্ঘ পথচলা
হৃদয় কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক মিসেস রাশিদা ইসলাম একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। একটি গ্রামীণ অঞ্চলে প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সফলভাবে পরিচালনা করে যাওয়া তাঁর কর্মদক্ষতা, অধ্যবসায় ও দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে।
নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে হৃদয় কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং সেন্টার ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের মধ্যে কম্পিউটার শিক্ষার আগ্রহ সৃষ্টি এবং আধুনিক কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এর ফলে প্রযুক্তিগত শিক্ষা এখন শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়; প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরাও নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য প্রযুক্তিকে দক্ষতা হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিগত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে যাওয়া শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়; এটি পুরো এলাকার শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনেরও প্রতিফলন।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ের পথচলায় হৃদয় কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং সেন্টার আজ শুধু একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অসংখ্য শিক্ষার্থীর কাছে এটি প্রযুক্তিগত শিক্ষা অর্জনের ভরসার জায়গা, দক্ষতা অর্জনের ঠিকানা এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের হাতে প্রযুক্তির শক্তি তুলে দিয়ে এবং আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সুযোগ তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে যে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রযুক্তির আলো ছড়িয়ে দিয়ে হৃদয় কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং সেন্টার আজও এগিয়ে চলেছে। আর সেই পথচলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও সাফল্যের গল্প।
স্টাফ রিপোর্টার 


