ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“তামাকের বিষাক্ত ছোবলে শৈশব বন্দি: লামায় শিশুশ্রমে জড়িত দুই সহোদর”

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৫১ বার দেখেছেন

নজরুল ইসলাম (লামা) বান্দরবান:
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বাড়ছে তামাক চাষ। লাভজনক ফসলের তকমা পেলেও এর আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মানবিক বিপর্যয়। তামাক চাষের এই বিষাক্ত বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুদের শৈশব।
সম্প্রতি লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের একটি তামাক ক্ষেতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ১০ বছর বয়সী মুফিজুল এবং তার ১৪ বছর বয়সী বড় ভাই মুর্শেদুল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তামাক ক্ষেতে কাজ করছে। দুই ভাই নিজেদের পরিবারের তামাক ক্ষেতে কাজ করলেও তাদের শ্রমের ধরন ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয়রা জানান, একজন শিশু খালি হাতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বিতরণ করছিল, অন্যজন কোদাল দিয়ে জমি খুঁড়ছিল। তামাক গাছের পাতা ও মাটিতে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক শিশুদের শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে—যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাক চাষে ব্যবহৃত কীটনাশক ও নিকোটিনযুক্ত রস শিশুদের ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে ‘গ্রিন টোব্যাকো সিকনেস’সহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। অথচ এসব বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের সচেতনতা খুবই সীমিত।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে কোনো শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তামাক চাষকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বাস্তবে এই আইনের কার্যকর প্রয়োগ খুব কমই দেখা যায়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব ও বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে শিশুদের মাঠে নামাচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়ের পরিবর্তে শিশুরা জড়িয়ে পড়ছে কঠিন ও বিপজ্জনক শ্রমে।

বিদেশে নেওয়ার প্রলোভনে ৪০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ, টাকা ফেরতের দাবিতে গোপালগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন

“তামাকের বিষাক্ত ছোবলে শৈশব বন্দি: লামায় শিশুশ্রমে জড়িত দুই সহোদর”

সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

নজরুল ইসলাম (লামা) বান্দরবান:
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বাড়ছে তামাক চাষ। লাভজনক ফসলের তকমা পেলেও এর আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মানবিক বিপর্যয়। তামাক চাষের এই বিষাক্ত বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুদের শৈশব।
সম্প্রতি লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের একটি তামাক ক্ষেতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ১০ বছর বয়সী মুফিজুল এবং তার ১৪ বছর বয়সী বড় ভাই মুর্শেদুল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তামাক ক্ষেতে কাজ করছে। দুই ভাই নিজেদের পরিবারের তামাক ক্ষেতে কাজ করলেও তাদের শ্রমের ধরন ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয়রা জানান, একজন শিশু খালি হাতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বিতরণ করছিল, অন্যজন কোদাল দিয়ে জমি খুঁড়ছিল। তামাক গাছের পাতা ও মাটিতে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক শিশুদের শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে—যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাক চাষে ব্যবহৃত কীটনাশক ও নিকোটিনযুক্ত রস শিশুদের ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে ‘গ্রিন টোব্যাকো সিকনেস’সহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। অথচ এসব বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের সচেতনতা খুবই সীমিত।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে কোনো শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তামাক চাষকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বাস্তবে এই আইনের কার্যকর প্রয়োগ খুব কমই দেখা যায়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব ও বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে শিশুদের মাঠে নামাচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়ের পরিবর্তে শিশুরা জড়িয়ে পড়ছে কঠিন ও বিপজ্জনক শ্রমে।