ঢাকা , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসা যেন দূর শহরের গল্প

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:১৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩২২ বার দেখেছেন

মোঃ মমিনুল ইসলাম দিপু
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি 

চরাঞ্চলে সূর্য ওঠে বালুর বুকে, কিন্তু হাসপাতালের আলো পৌঁছায় না। এখানে অসুখ মানেই ভয়, আর চিকিৎসা যেন দূরের কোনো শহরের গল্প। জ্বর-সর্দি, ডায়রিয়া কিংবা গর্ভাবস্থার জটিলতা—সব কিছুর চিকিৎসা পেতে চরবাসীকে ছুটতে হয় মূল ভূখণ্ডে। কিন্তু সেই ছুটে চলার আগেই অনেক সময় থেমে যায় জীবনের গতি।
গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এমন করুণ বাস্তবতা এখন নিত্যদিনের চিত্র।

প্রসবব্যথায় কাতর নারী, শ্বাসকষ্টে ভোগা বৃদ্ধ কিংবা জ্বরে আক্রান্ত নিষ্পাপ শিশু—সবার ভাগ্যই যেন এক। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে নদী পাড়ি দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সময়মতো নৌকা না পাওয়া, মাঝনদীতে স্রোতের টান কিংবা রাতের অন্ধকার—এসব কারণে অনেক রোগী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এসব মৃত্যু যেন নীরবে হারিয়ে যায় নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে।

সাঘাটা উপজেলার কালুরপাড়া চরের বাসিন্দা আব্দুল করিম প্রামানিক ভারী কণ্ঠে বলেন,
“চরের মানুষ অসুখ হলে আল্লাহর উপরই ভরসা। ডাক্তার তো দূরের কথা, একটা স্যালাইনও সহজে পাওয়া যায় না। রোগী নিয়ে বের হলে জানি না সে বাঁচবে, না লাশ হয়ে ফিরবে।”
চরবাসীর চোখে তাই চিকিৎসা কোনো অধিকার নয়, বরং এক অনিশ্চিত স্বপ্ন। নদীভাঙন, দারিদ্র্য আর অবহেলার সঙ্গে লড়তে লড়তে তাদের জীবনে স্বাস্থ্যসেবা আজও রয়ে গেছে অধরাই। প্রশ্ন থেকে যায়—এই মানুষগুলোর জন্য কবে চিকিৎসা বাস্তব হবে, কবে আরেকটি প্রাণ হারানোর খবর শুনতে হবে না?

চিকিৎসা যেন দূর শহরের গল্প

সর্বশেষ আপডেট : ০৩:১৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

মোঃ মমিনুল ইসলাম দিপু
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি 

চরাঞ্চলে সূর্য ওঠে বালুর বুকে, কিন্তু হাসপাতালের আলো পৌঁছায় না। এখানে অসুখ মানেই ভয়, আর চিকিৎসা যেন দূরের কোনো শহরের গল্প। জ্বর-সর্দি, ডায়রিয়া কিংবা গর্ভাবস্থার জটিলতা—সব কিছুর চিকিৎসা পেতে চরবাসীকে ছুটতে হয় মূল ভূখণ্ডে। কিন্তু সেই ছুটে চলার আগেই অনেক সময় থেমে যায় জীবনের গতি।
গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এমন করুণ বাস্তবতা এখন নিত্যদিনের চিত্র।

প্রসবব্যথায় কাতর নারী, শ্বাসকষ্টে ভোগা বৃদ্ধ কিংবা জ্বরে আক্রান্ত নিষ্পাপ শিশু—সবার ভাগ্যই যেন এক। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে নদী পাড়ি দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সময়মতো নৌকা না পাওয়া, মাঝনদীতে স্রোতের টান কিংবা রাতের অন্ধকার—এসব কারণে অনেক রোগী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এসব মৃত্যু যেন নীরবে হারিয়ে যায় নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে।

সাঘাটা উপজেলার কালুরপাড়া চরের বাসিন্দা আব্দুল করিম প্রামানিক ভারী কণ্ঠে বলেন,
“চরের মানুষ অসুখ হলে আল্লাহর উপরই ভরসা। ডাক্তার তো দূরের কথা, একটা স্যালাইনও সহজে পাওয়া যায় না। রোগী নিয়ে বের হলে জানি না সে বাঁচবে, না লাশ হয়ে ফিরবে।”
চরবাসীর চোখে তাই চিকিৎসা কোনো অধিকার নয়, বরং এক অনিশ্চিত স্বপ্ন। নদীভাঙন, দারিদ্র্য আর অবহেলার সঙ্গে লড়তে লড়তে তাদের জীবনে স্বাস্থ্যসেবা আজও রয়ে গেছে অধরাই। প্রশ্ন থেকে যায়—এই মানুষগুলোর জন্য কবে চিকিৎসা বাস্তব হবে, কবে আরেকটি প্রাণ হারানোর খবর শুনতে হবে না?