তাইয়েব ইবনে ফারুকী, ময়মনসিংহ
আজ (৬ জানুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহের মালগুদাম মাঠ এলাকায় এক নবজাতক শিশুকে কনকনে শীতে ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে রাখা হয়েছে, যা মানুষের সমবেদনা আর মনুষ্যত্বের প্রতি গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়রা মাস্কান্দা বাজার এলাকায় শিশুর কান্না শুনে দ্রুত কোতোয়ালি থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নবজাতককে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে নবজাতক চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
পুলিশ জানায়, ফেলে রাখা নবজাতক জীবিত উদ্ধার হওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং জীবন নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী শিশু সুরক্ষা বিভাগ ও সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
এই ধরনের ঘটনা শুধু ময়মনসিংহেই নয় — সমগ্র বাংলাদেশে নবজাতককে পরিত্যক্তভাবে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় সম্প্রতি উদ্বেগজনক বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য অনুযায়ী গত কয়েক বছরে দেশব্যাপী প্রায় ২১০টি নবজাতককে পরিত্যক্ত ও মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অনেক শিশুই জীবিত থাকলেও, বেশিরভাগ নবজাতকই মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং তাদের অধিকাংশই জীবিত থাকার সম্ভাবনা হারিয়ে ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনায় সামাজিক কুসংস্কার, গর্ভধারণের পরে সামাজিক ব্যাধি ও দারিদ্র্য জড়িত থাকতে পারে। শিশু অধিকার কর্মী ও সমাজসংস্কারকরা বারবার সতর্ক করেছেন যে, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বৃদ্ধি পাবে।
আইন অনুযায়ী, নবজাতককে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ এবং এর জন্য উচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক লজ্জা, সামাজিক চাপ বা অর্থনৈতিক বাধার নামে এমন কাজ করা সামাজিক ও মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
স্থানীয় পুলিশ ঘটনার দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে এবং শিশুর পরিবার ও আশ্রয় ব্যবস্থা নির্ধারণের জন্য সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। একই সঙ্গে এলাকাবাসী এই মর্মান্তিক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বহুল আলোচিত হচ্ছে মানবিক দৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক ও শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা। সামাজিক কর্মী ও মানবাধিকার সমর্থকদের মতে, শুধুমাত্র আইনি ব্যবস্থা নিলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না; প্রয়োজন বিশ্বাসঘাতক সামাজিক পরিবর্তন এবং পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান করা।
স্টাফ রিপোর্টার 









