শফিকুজ্জামান সোহেল
রংপুর প্রতিনিধি
গত কয়েকদিন ধরে রংপুর মহানগরীসহ এ অঞ্চলের ৫ জেলায় অব্যাহতভাবে তীব্র শৈতপ্রবাহ বইছে। এতে কাহিল হয়ে পড়েছে নারী-শিশুসহ বৃদ্ধরা। প্রতিনিয়তই বাড়ছে শীতজনিত রোগ। বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে শীতজনিত রোগে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। এর মধ্যে ৯জনই শিশু বলে জানা গেছে।
এদিকে বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী প্রায় ৭ শতাধিক নারী-পুরুষ চিকিৎসাধীন। প্রতিনিয়তই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯ জন শিশু ও ৭ জন বয়স্ক ব্যক্তি মারা গেছেন। তারা সবাই শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অ্যাজমার মতো জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। ‘নিহত শিশুদের বয়স ছিল ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এবং বয়স্কদের বয়স ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে। এই দুই বয়সের মানুষ ঠাণ্ডাজনিত রোগে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, ‘এ সময় প্রায় ৩ হাজার শিশু ও দেড় হাজারের বেশি বয়স্ক ব্যক্তি শীতজনিত রোগে আক্রন্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে।’
রংপুরের পীরগাছা নব্দীগঞ্জ এলাকার সিরাজুল ইসলাম মিয়া জানান, ‘আমার দুই বছরের শিশু মাহিম ইসলাম নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে গত শনিবার রাত ১০টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাই। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার মারা যায়।
জানা গেছে, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রংপুর জেলার আট উপজেলাসহ এ অঞ্চলের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, অ্যাজমা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অনেক রোগী হাসপাতালে আসছেন।
এ বিষয়ে রংপুর আবহাওয়া অধিপ্তরের ইনচার্জ আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় রংপুর বিভাগে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। উত্তরের বরফ শীতল বাতাসের কারণে এই অঞ্চলে হাড়কাঁপানো শীত পড়েছে। এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
স্টাফ রিপোর্টার 









